Tag: কাউমেট কিভাবে তৈরি হয়

  • বাংলাদেশের কাউমেট নিয়ে কিছু আলোচনা :

    বাংলাদেশের কাউমেট নিয়ে কিছু আলোচনা :

    লেখক: সুলতান সালাহউদ্দিন।

    কেমিস্ট – রাবার এন্ড প্লাষ্টিক টেকনোলজি

    কাউমেট কি

    কাউমেট বলতে সাধারণত গরুর বিছানা বোঝায় -যেখানে গরু থাকে, বা ঘুমিয়ে থাকে।

    ডেইরি ফার্মে, গরুর খামারে কাউমেট প্রয়োজন

    কাউমেট এর প্রকারভেদ?

    নানা রকমের কাউমেট আছে। এখানে ঢাকায় যেসব কাউমেট পাওয়া যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করব। ঢাকা ও তার আশেপাশে যেসব কারখানায় কাউমেট তৈরি হয় তা সাধারণত দুই ধরনের। একটা হল অ্যালকাথিন দানার শিট। এটাকে কেউ কেউ কটকটি সিট বলে। আরেকটা হল রাবার সিট। রাবার শিটকে কেউ কেউ টায়ারের সীট বলে, প্রকৃতপক্ষে এটা টায়ারের সিট নয়।

    কটকটির সিট সাধারণত হালকা আর রাবার সিট ভারী হয়।

    এখানে রাবার সিট নিয়ে আলোচনা করব।

    রাবার সিট কি দিয়ে তৈরি হয়?

    রাবার সিট তৈরি করতে রাবার, কাপলাম, তলা কাপলাম, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, চায়না মাটি, বিভিন্ন ধরনের রিসাইকেল, যেমন ইভা চাপটি বার্মিজ চাপটি, বংশাল ভুসি,ক্যান্ডেল ভূষি, তলা চাপটি । আরো দিতে হয় কার্বন ব্লাক, মবিল তেল ,ডিসিপি, পিটি। ইত্যাদি

    নিচে একটি রাবার ম্যাট তৈরির ডামি ফর্মুলা দেয়া হলো। এতে একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

    SL/noIngredientsQuantity[℅]Remarks
    1Rubber20%RSS
    2Calcium carbonate 7%heavy
    3China clay10%
    4Recycle50%
    5Carbon Black3%
    6waste oil4%
    7Zinc oxide 1%
    8Stearic acid 1%
    DCP0.8%
    10PT2.5-3.5%★

    কেমিষ্টগন নানান রকম ফর্মুলা ডিজাইন করেন। ভিন্ন ভিন্ন ফর্মুলায় ভিন্ন রকমের সিট হয়। কোয়ালিটি অনুসারে সিটের দামের পার্থক্য হয়। ফর্মুলায় আরো নানা ধরনের উপাদান যোগ করা যায়।যেমন ইভিয়ে আরো অন্য কিছু এডিটিভ যোগ করলে শীতের কোয়ালিটি আরো উন্নত হয় এবং মজবুত হয়

    মোল্ড বা ডাইসের কারনে সিটের ওজন ও সাইজ নির্ভর করে।

    কাউমেট এর ওজন সাধারণত ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    কাউমেট এর সাইজ সাধারণত লম্বায় ৫০ ইঞ্চি থেকে ৮৫ ইঞ্চি থাকে। পাশে ৪৫ ইঞ্চি থেকে ৫৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। আর থিকনেস ১০mm থেকে ২৫ এম এম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    কাউমেট এর আর কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার :

    ক. সিটের হার্ডনেস :ইভা সিটের হার্ডনেস বলতে ইভা (EVA) ফোমের কঠোরতা বা নরম-শক্ত ভাব বোঝায়। এটি বুঝতে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি:

    · মাপার পদ্ধতি: “শোর” (Shore) ডুরোমিটার দিয়ে মাপা হয়। ইভার জন্য প্রধানত শোর এ (Shore A) ও শোর সি (Shore C) স্কেল ব্যবহার করা হয়।
    · হার্ডনেসের মাত্রা: ইভা ফোমের কঠোরতা সাধারণত ১৫° থেকে ৮০° পর্যন্ত হয়ে থাকে। কম সংখ্যা মানে নরম, বেশি সংখ্যা মানে শক্ত।
    · ব্যবহারিক প্রভাব: নরম ইভা (১০-২০°) আরামদায়ক হলেও দ্রুত নষ্ট হয়। শক্ত ইভা (৬০-৮০°) বেশি টেকসই ও সাপোর্ট দেয়। সিটের জন্য সাধারণত মাঝারি (৩০-৫০°) থেকে শক্ত ইভা বেশি ব্যবহৃত হয়। কাউমেট এর হার্ডনেস ৬০-৮০ এর মাঝে ভালো।

    ঘনত্ব পরীক্ষা (Density Test):প্রতি ইউনিট আয়তনের ভর মাপা হয়। হালকা vs ভারী সিট সনাক্ত করতে এটি জরুরি।
    · প্রসার্য ও টিয়ার শক্তি পরীক্ষা (Tensile & Tear Strength Test):কতটুকু টান বা টুকরো হওয়ার চাপ সহ্য করতে পারে তা যাচাই করা হয়।
    · সংকোচন পরীক্ষা (Compression Test):চাপ দেওয়ার পর কতটুকু স্থায়ী বিকৃতি হয় (Compression Set) এবং কতটুকু ফিরে আসে (Resilience) তা মাপা হয়।
    · প্রভাব সহনশীলতা পরীক্ষা (Impact Test):বল ড্রপ টেস্টের মাধ্যমে হঠাৎ আঘাত কতটা শোষণ করতে পারে তা যাচাই করা হয়।
    · ঘর্ষণ সহনশীলতা পরীক্ষা (Abrasion Resistance):ঘষার ফলে কতটুকু ক্ষয় হয় তা মাপা হয়।

    এক্সপোর্ট কোয়ালিটি বা ভালো সিটের জন্য উপরের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

    কাউমেট তৈরির কারখানা ও ভিডিও

    কাউমেটের পাইকারি বাজার :

    ১. ঢাকার বংশালে সুরিটোলা, মালিটোলা ছিক্কাতুলি এসব জাগায় কাউমেটের পাইকারি দোকান আছে।

    ২. ঢাকার চকবাজারে ছোটকাটারায় কয়েকটি কাউমেটের পাইকারি দোকান আছে।